সংসদের হুইপ শামশুল হক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে নিয়ে যেন আলোচনা সমালোচনা থামছেই না। একের পর এক বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকান্ড করে তিনি আসছেন আলোচনায়।আর সেই সাথে তার নামে একের পর এক অভিযোগ উঠছে হরহামেশাই। তারপরেও টনক নড়ছে না প্রশাসনের। সম্প্রতি এবার তিনি বিতর্কিত মন্তব্যে করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। ’বেশি বাড়াবাড়ি করলে ’লেং’টা করে ছেড়ে দিবো, রাস্তায় যেদিন কাপড় খুলে রেখে দিবো, সেদিন বুঝবেন। মুক্তিযো’দ্ধা পিটাইয়া হাত পাকাইছি, বাড়াবাড়ি করলে থা’/প’/ড়া’ই/’য়া/ দাঁত ফে’লে দিবো।’ এভাবেই হু’মকি দিয়েছিলেন জাতীয় সং’সদের হুইপ ও চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে নির্বাচিত সং’সদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর পুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন। আর যাঁকে হু’মকি দেন তিনি চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযো’দ্ধা ও স্বাধীনতার বার্তাবাহক মো. দিদারুল আলম, যিনি চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবি’ষয়ক সম্পাদক।
গত সোমবার দিদারুল আলম বলেন, ’সেই দিন ছেলের বয়সী শারুনের কথায় বুক ভে’ঙে যায়। লজ্জায় বি’ষয়টি গো’পন রাখতে চেয়েছিলাম। পরে পাঁচলাইশ থানায় জি’ডি করি ও আজম নাছিরকে জানাই। বি’ষয়টি ভাবলে এখনো ভীষণ খা’রাপ লাগে।’ শা’স্তি না হওয়াতেই শারুন দিন দিন বে’পরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ’সেই বেয়াদব ছেলেটিই এখন আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য। চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের মানুষের কাছে যিনি শ্রদ্ধার পাত্র, সেই প্রধানমন্ত্রীকেও অ’পমান করতে ছাড়েনি হুইপপুত্র শারুন।’

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ এই প্রবীণ নেতা মুক্তিযু’দ্ধে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার যে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করা হয়েছিল, সেটিরও গর্বিত বাহক ছিলেন দিদারুল। ঘোষণাপত্রটি বঙ্গবন্ধু ঢাকা থেকে ওয়্যারলেসে পাঠান, সেখান থেকে চট্টগ্রাম ওয়্যারলেসে পাঠিয়ে অপারেটর তাঁকে ফোন করেন। ভোরে সেটি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নানের কাছেসহ বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন। তারপর সেটি পাঠ করেন এম এ হান্নান।

দিদারুল ১ নম্বর সেক্টরে মেজর রফিকুল ইসলামের অধীনে যু’দ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযু’দ্ধে চর হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনবার ধরা পড়লেও কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যান। যু’দ্ধের শেষ দিকে ফটিকছড়ি, রাউজানে সম্মুখযু’দ্ধে অংশ নেন। সেই বেঁচে যাওয়াকে দ্বিতীয় জীবন মনে করে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন জীবনে কখনো দু’র্নীতির সঙ্গে আপস করবেন না।

দেশের এমন একজন সে’নানীকে কোন সাহসে এমন হু’মকি? দিদারুল আলম জানান, তিনি যখন চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির সভাপতি, তখন ক্লাবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (প্রিমিয়ার ব্যাংকের জিইসি শাখা) তাঁর, সামশুল হক চৌধুরী ও ম্যানেজারের স্বাক্ষরে পরিচালিত হতো। যেকোনো দুজনের স্বাক্ষরে টাকা তোলা যেত। ওই সময় তিনি জানতে পারেন, কৌশলে ক্লাবের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে পটিয়ায় নির্বাচনে খরচ করছেন সামশুল হক চৌধুরী। দিদারুল বলেন, ’গো’পনে ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, আমি ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে পারছি না। ঘটনাটি জানার পর ব্যাংকে গিয়ে স্টপ পেমেন্ট করি। এতেই খেপে যায় হুইপপুত্র শারুন। আমাকে বলে, ক্ষমতা দেখাতে চান? পারবেন না। আমি বললাম, কেন পারব না! আমি তো অরিজিনাল, তোমার আব্বা তো বিএনপি, জাতীয় পার্টি হইয়া আওয়ামী লীগে। হঠাৎ বিশ্রী ব্যবহার করল। যা বলেছে, তা কল্পনাতেও ছিল না। সেই দিনই আমাকে থাপড়াইয়া দাঁত ফে’লে দেয়ার হু’মকি দিয়েছিল।’

সাক্ষাৎকারে চ্যালেঞ্জ ছু’ড়ে এই মুক্তিযো’দ্ধা বলেন, ’সামশুল হকের ব্যক্তিজীবনে প্র’তারণা ছাড়া ভালো কোনো কাজ একটিও নেই। আমি প্রকাশ্যে বলছি, সাহস থাকলে আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুক, প্রমাণ করে দেখাক একটি ভালো কাজ করেছে!’ এক পর্যায়ে তিনি ক্ষো’ভের সঙ্গে বলেন, ’সামশুল হক হারাম খাইয়া ছেলে জন্ম দিয়েছে, খা’রাপ না হইয়া ভালো হবে ক্যামনে?’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সান্নিধ্যের কথা বলতে গিয়ে স্মৃ’তিকাতর হয়ে পড়েন দিদারুল। বলেন, ’বঙ্গবন্ধুর পায়ে সালাম করলে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে আলতো করে চুমু এঁকে দিয়েছিলেন।’ তিনি জানান, এ সব স্মৃ’তিই তাঁকে এখনো আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শে অবিচল থাকতে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে। অনেক আগেই বিএনপি-জাতীয় পার্টি থেকে মন্ত্রিসভায় যোগদানের প্রস্তাব পেয়েছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধু এবং নীতি-আদর্শের প্রতি থেকেছেন অবিচল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পতাকা উড়িয়ে যেতে চান তিনি।

হুইপ সামশুল হকের অ’পকর্ম তুলে ধরে মুক্তিযো’দ্ধা দিদারুল বলেন, ’চট্টগ্রাম আবাহনীর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলাম। যখন লিমিটেড কম্পানি করা হয়, তখন বের হয়ে আসি, আমাকে অনুরোধ করে ফুটবল কমিটির সভাপতি করেছে। কিন্তু ক্লাবে রাত-দিন ক্যা’সিনো জু’য়া চলত, সেখানেও আমার দ্বিমত ছিল। প্রতি রাতে ছয় লাখ টাকা আয় করত সামশুল হক ও শারুন। শারুনের স’ন্ত্রাসীদের দেওয়া হতো এক লাখ টাকা। বাকি পাঁচ লাখ টাকা বাপ-বেটা ভাগ করে নিত। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্যা’সিনোর বি’রুদ্ধে অ’ভিযান শুরু করলেন, ঠিক তখন প্রধানমন্ত্রীর বি’রুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছে ওরা। ওই দিনের পর আমিও বসে থাকতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর কন্যার বি’রুদ্ধে যে-ই কথা বলুক, প্র’তিবাদ আমি করবই, মুখ বন্ধ থাকবে না।’

এই বীর মুক্তিযো’দ্ধা আরো বলেন, ’মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আজকেও (৬ জুন) ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছি। বার্তায় বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই একটি লোক (হুইপ সামশুল হক চৌধুরী) যে কিনা ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের আগে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম এলে তাঁর সভা পরিচালনা করেছিল, তখন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে গালাগাল করছিল। জিয়াউর রহমান ওই সময় তাকে বিচ্ছু সামশু নাম দেন। সেই থেকে সে বিচ্ছু সামশু হিসেবে পরিচিত।’ দিদারুল প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ’সামশুল হক চৌধুরীর মতো বিভিন্ন দল থেকে এসে যারা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করছে, ত’দন্ত সাপেক্ষে তাদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। যে লোকটা মেশিন চু’রি করে জে’ল খেটেছে, যে লোকটি আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীকে নি’র্যাতন করেছে, জিয়ার বিচ্ছু সামশুর মতো মানুষের গাড়িতে যদি ফ্ল্যাগ থাকে, তাহলে আমাদের আর কিছু বলার থাকে না। সামশুল হকের মতো দু’র্নীতিবাজ এবং জামায়াত-হেফাজতের রক্ষক এমন ব্যক্তিকে দ্রুত দল থেকে বিতাড়িত করুন। বঙ্গবন্ধুর আত্মা আমাদের অভিশাপ দিচ্ছে। হুইপ সামশুল হকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বি’রোধ নেই। আমাকে বড় ভাইয়ের মতো জানে। কিন্তু আমি বিবেকের দংশনে ভুগছি, তাই এসব বলছি।’

দিদারুল আরো বলেন, ’এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পটিয়া আওয়ামী লীগকে শেষ করে দিয়েছে সামশুল। জামায়াত-হেফাজত ও বিএনপির লোকজনকেও পদ দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু ৫০ লাখ টাকা নিয়ে বিএনপির একজনকে জিতিয়ে এনেছে। জে’লার নেতারা তার পক্ষে নেই।’

দিদারুল আরো বলেন, ’লোকমুখে শোনা যাচ্ছে কক্সবাজারের ই’/য়া’/বা’/ সিন্ডিকে’টের সঙ্গে জ’ড়িত হুইপপুত্র শারুন। এমনকি হুইপের পিএ এজাজ চৌধুরীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার ই’/য়া’/বা’/ উ’দ্ধার করেছিল প্রশাসন। বিশেষ করে এই ইয়াবার গডফাদার হুইপপুত্র।’ দিদারুল বলেন, ’সেই দিন ছেলেকে বাঁচাতেই ওই ঘটনায় পিএ এজাজের নাম দেওয়া হয়েছিল। সেই মা’মলা এখনো ত’দন্তাধীন, বি’ষয়টি সবাই জানে।’ প্রবীণ এই মুক্তিযো’দ্ধা জানান, শারুন এখন স’ন্ত্রাসী বাহিনী লালন করেন। কেউ তাঁর অন্যায়ের প্র’তিবাদ করলে এই বাহিনী লেলিয়ে দেন।


এ দিকে এই ঘটনা এই প্রথম নয়। হুইপ পুত্রের এমন ধরনের সব ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন অনেকে আরো অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এ সব কিছু নিয়ে কোনদিনও হয়নি কোন প্রতিবাদ। যার ফলে হুইপ পুত্র দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে তিনি। এলাকা সহ দলের অনেকেই বলছেন তার বাবার প্রশ্রয়েই নাজমুল হয়ে উঠছেন এমন।

আরো পড়ুন

পরিকে করতে যাবে কেন, নাসির ভাই চাইলে হাজার হাজার পরি যখন তখন নিতে পারে:হেলেনা

19 June, 2021 | Hits:741

বাংলাদেশের বর্তমান একটি আলোচনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে,আর তা হলো পরিমনির ঘটনা। এই ঘটনা এখন বিস্তার ছড়িয়ে পড়ছে আরো অনেক শাখা...

জীবনের অর্জিত সব সম্পত্তি দান করে দেবেন তোফায়েল আহমেদ, প্রকাশ্যে কারন

21 June, 2021 | Hits:437

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অন্যতম বড় এবং প্রবীণ নেতাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বাংলাদেশের রাজনিতী...

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেঁচে থাকলে কোনো চিন্তাই করতাম না,উনি না থাকায় অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছি

19 June, 2021 | Hits:426

পরিমনির ঘটনা নিয়ে যেন আলোচনা থামছেই না। একের পর এক উঠে আসছে নানা ধরনের সব নতুন নতুন ঘটনার তথ্য। এ দিকে এই ঘটনার অন্যতম এ...

দুই স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব, মায়ের জিম্মায় আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান

20 June, 2021 | Hits:425

শেষ পর্যন্ত জটিলতা কেটেছে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের বিষয়টি নিয়ে। তাকে খুজে পাওয়া গেছে দীর্ঘ আটদিন পরে। আর এই আট দিন ধর...

পররাষ্ট্র ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস, স্যোশল মিডিয়ায় আলোচনা

21 June, 2021 | Hits:198

এবার ফেসবুকে মুখোমুখি হয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী।তারা দুজনে দিয়েছেন দুটি পাল্টা-পাল্টি স্ট্যাটাস।...

বিলেতে ঝলক দেখাচ্ছেন বাংলাদেশি তাফহিমা, উচ্ছ্বাসিত প্রবাসিরাও

20 June, 2021 | Hits:144

বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে নানা ধরনের সব ইতিবাচক কর্মকান্ড করে বাংলাদেশের নাম করেছে উজ্জল। আর ...