ভিকারুননিসানুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়ে যেন আলোচনা সমালোচনা থামছেই না। একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ফলে এখন এটি হয়ে উঠেছে টক অব দ্যা টাউন। এ দিকে এই সব ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিকারুননিসানুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার। ভিকারুননিসানুন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে আরও পবিত্র করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত ও সমালোচিত অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন্নাহার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি একটি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না, আপনারা দুঃখ পাবেন না। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা জয়ী হব। শুভ শক্তির বিরুদ্ধে কখনও অশুভ শক্তি জয়ী হয় না। আমরা অবশ্যই একদিন এই পবিত্র অঙ্গনকে আরও পবিত্র করব।’

মঙ্গলবার রাতে যমুনা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আপনার একটা ফোনালাপ ফাঁস হওয়া ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ফোনালাপ কি আপনার কিনা?- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ’এটা কখনই আমার দ্বারা সম্ভব না। এটা একটা ষড়যন্ত্র। গরুর হাট নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র হয়েছে, এটা একটা ষড়যন্ত্র। আরও ষড়যন্ত্র ভবিষ্যতে হবে।’

কারা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’যারা আমার কাছে অনৈতিক দাবি করে আসছে। আপনারা তো জানেন এখানে কারা? এটা সবাই জানে, এটা একটা ভালো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, এত ভালো স্টুডেন্ট। কিন্তু এর বাইরে বাজে একটা অংশ আছে। যে অংশটার কাছে জিম্মি এই প্রতিষ্ঠান। তারা আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা বলেছিল, আমি যদি তাদের সঙ্গে না থাকি, তাদের অবৈধ ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে না থাকি...তারা আমাকে অসংখ্যবার হুমকি দিয়েছে। কত অসংখ্যবার তারা আমার রুমে অ্যাটাক করেছে, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমাকে কোপানোর হুমকি দিয়েছে।

যে ফোনালাপ বা যে কণ্ঠ কিছু (অশ্লীল) ভাষা আপনি ব্যবহার করেছেন সেটা তো আপনারই কণ্ঠ? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, হতে পারে। এরকম মনে হতে পারে। আমার সঙ্গে তারা কথা বলে, ভর্তিটর্তির বিষয়ে অনেক সময় তারা চায়, অনেক সময় বাজে বাজে কথা বলে এডিট করেছে। আপা (সাংবাদিকের উদ্দেশে) এগুলো বিশ্বাস করবেন না। এগুলি ষড়যন্ত্র।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অতীতে কোনোদিন ক্ষমতা দেখাইনি। আপনি (সাংবাদিক) একজন মহিলা আপনি আমার পাশে থাকবেন প্লিজ। আপনি ইডেন কলেজে যান, সেখানে আমি ১০ বছর চাকরি করেছি, টু শব্দও করিনি। আওয়ামী লীগ তো ১২ বছর ধরে ক্ষমতায়। দলের কাউকে কোনোদিন বলিনি আমাকে এটা দাও, ওইটা দাও। আমার দ্বারা কোনো দিন কোনো বাজে শব্দ উচ্চারণ হয় নাই। ওরা জানে, আমি একসময় ছাত্র রাজনীতি করেছি। এটা তো আমি করতেই পারি। সেটা অতীত।

কামরুন্নাহার আরও দাবি করেন, আমাদের একটা ক্লিন ইমেজ আছে। রোকেয়া হলের ছাত্রলীগের ছাত্রীদের একটা ক্লিন ইমেজ আছে। সবাই জানে এরা অনেক ভদ্র। এরা আমাকে দমানোর জন্য এটা করেছে। এরা যখন আমার বিরুদ্ধে কোনো কিছুই করতে পারছে না। আমার কোনো আর্থিক, কোনো অনৈতিক কোনো কিছুই ধরতে পারছে না তখন তারা আমার রাজনীতি ধরে টান দিছে। আমি তো কোনোদিন ক্ষমতা দেখাইনি।

অধ্যাপক কামরুন্নাহার বলেন, আমি তো কোনো বাণিজ্য করিনি। এই সরকার এতদিন আছে। আমি তো কোনোদিন মিনিস্ট্রিতে যাই না। কেউ বলতে পারবে না, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কোনো মন্ত্রণালয় বা ডিজি অফিসে গিয়ে কোনো বাণিজ্য করেছি বা সুবিধা নিয়েছি। এই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি সরকারি চাকরি করার জন্য। পরিচয়ও দিই না। কারণ, আমি সরকারি চাকরি করি। আমার তো এই পরিচয় দেওয়ার সুযোগ নাই।

এডিটিং বলেন আর যাই বলেন, কণ্ঠটা তো আপনার এ বিষয়ে আপনি কি কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন?- এমন প্রশ্নর জবাবে অধ্যাপক কামরুন্নাহার বলেন, ’আমি এখনও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি। তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’

ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন যমুনা টিভিকে বলেন, এই ফোনালাপটির শতভাগ অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিজের। তিনি মিডিয়ার কাছে মিথ্যা বলেছেন। যে অডিও ক্লিপটি ফাঁস হয়েছে যে, তিনি পিস্তল নিয়ে ঘুমান, ভিকারুননিসার মাঠে গরুর হাট বসানো ইত্যাদি বিষয়ে তার চরিত্রটা সবার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ তার কথা শুনেছে। এখন তিনি বলছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ওনার বিরুদ্ধে কেন ষড়যন্ত্র হবে? তিনি এখানে সসম্মানে থাকবেন এটাই সবার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তিনি তা করছেন না। তিনি ছাত্রী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তিনি এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরু-ছাগলের বাজার বসিয়েছেন। ভিকারুননিসা স্কুলের সাথে এটা কি যায়? তিনি নিজেও ওই হাট থেকে কুরবানির গরু কিনেছেন।

যখন আমরা অভিভাবকরা এ বিষয়টা জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কেন এখানে গরুর হাট বসিয়েছেন? তখন তিনি জবাব দিতে পারেননি। তারপর থেকে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে নানা ফন্দিফিকির করছেন।

এ দিকে প্রকাশ হওয়া ঐ কল রেকর্ডটি নিয়ে ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।জানা গেছে এটি প্রমানিত হলে নেয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা। এ সব নিয়ে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) কলেজ ও প্রশাসন পরিচালক অধ্যাপক মো. সাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ভিকারুননিসা নুন স্কুল আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফলতার সঙ্গেই কাজ করছে। আমরা চাই যে, যে পরিস্থিতিটা হয়েছে তার দ্রুতই একটা নিষ্পত্তি হবে। এই প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display