স্যোশাল মিডিয়ার যুগে ফেক আইডি খোলা এখন যেন হয়ে দাড়িয়েছে একটি ব্যাধি ও নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। বিশেষ করে বিশিষ্ট কোন ব্যক্তিদের নামে ঘটিয়ে থাকে এমন ধরনের ঘটনা বেশি পরিমানে।যা বেশ বিব্রতকর। সম্প্রতি বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজের নামে ফেসবুকে একাধিক ফেক আইডি খুলে একটি গ্রুপ চাঁ\’দা\’বা\’জি\’ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গছে। এ ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বুধবার (০৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
জেবুন্নেছা আফরোজ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে থাকলেও রাজনীতিতে সক্রিয় নেই। তিনি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জেবুন্নেছা লিখেছেন, \’বেশ কিছুদিন ধরে কে বা কারা আমার ছবি এবং নাম ব্যবহার করে জেবুন্নেছা আফরোজ হিরন/জেবু আফরোজ এমপি- এমন একাধিক ফেক আইডি খুলে আত্মীয়-স্বজন, নেতাকর্মী, পরিচিত-অপরিচিত মানুষের কাছে টাকা দাবি করছেন। যা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর, লজ্জাজনক।\’

তিনি আরও লিখেছেন, \’এসব ফেক আইডি থেকে কোনও রকম অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটার বিষয়ে আমি শঙ্কিত। ইতোমধ্যে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নোটিশ করে থানায় জিডি করেছি। সাইবার ক্রাইম ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে এবং ওসব ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা করছে। সবাইকে জানিয়ে রাখছি, আমার ফেসবুক আইডি একটাই। এর বাইরে কোনও আইডি নেই। ফেক আইডির সঙ্গে কেউ কোনও ধরনের অপকর্মে জড়ালে আমার দায় নেই। দয়া করে ফেক আইডির বিষয়ে আমাকে বিরক্ত করবেন না।\’
?jadewits_media_id=746807
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেবুন্নেছা আফরোজ বলেন, \’ওসব ফেক আইডি থেকে পরিচিত-অপরিচিত সবার কাছে ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি লজ্জাজনক এবং বিব্রতকর। সাইবার ক্রাইম বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গুলশান থানা জিডির তদন্ত শুরু করেছে। ওসব ব্যক্তি ধরা পড়বে।\’

২০০৮ বরিশাল সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র হন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন হিরন। ২০১৪ সালে তৃতীয় নির্বাচনে আবার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ওই বছর সদর আসনে মনোনয়ন পেয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। একই বছরের ৯ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। একই আসনে উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন তার স্ত্রী জেবুন্নেচ্ছা।

বর্তমানে সাবে এই নারী এমপি কোন ধরনের পদে না থাকলেও করে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগের রাজনিতী। রাজনিতীর সাথে তিনি একেবারেই ওৎপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। আর এই কারনেই এ ধরনের ঘটনা ঘটলে জনগনের কাছে তিনি হতে পারেন সন্দেহভাজন। তাই আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছেন এই বিষয়ে।

আরো পড়ুন

Error: No articles to display